প্রথম ধাপ (প্লাস-এজ)
- প্রথমেই আপনাকে যেকোন একটি রঙ বেছে নিতে হবে। সেটা লাল হতে পারে, হলুদ হতে পারে, কমলা হতে পারে ইত্যাদি। ধরে নিলাম আপনি নীল রঙ বেছে নিয়েছেন। এখন, এই নীল রঙকে ভিত্তি করে আপনাকে অন্যান্য রঙ মেলাতে হবে এবং অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে নীল রঙ আপনার কেন্দ্র।
- তারপর, নীল রঙ’কে উপরে রেখে এর বিপরীত পাশে থাকা (সরাসরি নিচে) রঙটি বেছে নিতে হবে। যেমন আমার এখানে সবুজ রঙ পরেছে। যেহেতু নীলের বিপরীত পাশে সবুজ রঙ আছে, তাই আপনাকে মাঝখানের সবুজ বর্গের চারদিক এমনভাবে নীল রঙ বসাতে হবে, যেন এটি একটি প্লাস (সবুজ রঙ এবং নীল রঙ একসাথে) হয়ে।
(প্লাস বানানোর পর, কিছুটা এমন দেখাবে)
- সবুজ সেন্টারকে উপরে নিয়ে আসুন। তারপর যেকোন একটি এজ বেছে নিয়ে তারমধ্যে যে দুইটি রঙ আছে, সেগুলোর সাথে নিচের সেন্টারের রঙের সাথে মেলানোর চেষ্টা করুন। যেমন: এক্ষেত্রে আমার সাদা এজের সাথে লাল সেন্টার আছে।
- তারপর সেটিকে (প্রথম লেয়ার) ঘুরিয়ে মেলানোর চেষ্টা করুন। নিচের চিত্রে যেমন আমার সাদা এবং সাদা মিলে গেছে।
- একটি এজের সাথে একটি সেন্টারের রঙ মিলে গেলে সেটি ১৮০° ঘুরিয়ে (২ বার নিচে ঘুরান) নিচে রেখে দিন। ঠিক একইভাবে অন্য ৩টি নীল এজ’এর সাথে একই কাজ করুন। তারপর যখন আপনি নীল সেন্টারে যাবেন, তখন কিউবটি কিছুটা এমন দেখাবে –
- খেয়াল করে দেখবেন, এখানে নীল প্লাসের সাথে অন্য ৪টি রঙের ২টি করে ব্লক মিলে গেছে।
দ্বিতীয় ধাপ (কর্ণার-এজ)
- প্লাস বানানো তো হল। এবার আসি কর্ণারের কাছে। এখানে আপনাকে যেকোনো একটি কর্ণার বেছে নিয়ে সেখানে সঠিক ব্লক বসাতে হবে। যেমন: উপরের চিত্রে ‘নীল-সাদা-লাল’, এই তিনটি রঙের মধ্যে এমন একটি কর্ণার ব্লক বসাতে হবে, যা কিনা এই তিনটি রঙকে মিলিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে আপনাকে সবগুলো কর্ণার বসিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন প্লাসটি ভেঙে না যায়।
- এবার আপনাকে কিউবের উপরের চারটি কর্ণের নিচের এজগুলো মেলাতে হবে। উপরের চিত্রে লাল ও সাদার মাঝখানে বর্তমানে সবুজ ও সাদা ব্লক আছে। এখানে লাল ও সাদা এজ আনতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে সেই ব্লকটিকে খুজে নিতে হবে।
- [Note: যদি লাল উপরে (তৃতীয় লেয়ার) থাকে, তাহলে ওই ব্লকটি (লাল) লালের সেন্টারের নিচে আনতে হবে। যদি এটি সাদা হত, তাহলে সাদা সেন্টারে আনতে হত)
- তারপর, লাল সেন্টারকে (ডান পাশের রঙ) আপনার সরাসরি রেখে এই সূত্রটি ব্যবহার করুন –
” D, L, Di, Li, Di, Fi, D, F “
- যদি এখানে সাদা উপরে (বাম পাশের রঙ) থাকত, (সাদা লালের জায়গায়, এবং লাল সাদার জায়গায়) তাহলে এই সূত্র লাগত –
” Di, Ri, Di, R, D, F, D, Fi “
এভাবে বাকি থাকা এজগুলো মিলাতে থাকুন। সবগুলো মিলে গেলে দেখবেন যে আপনি কিউবের ২টি লেয়ার মিলিয়ে ফেলেছেন, এবং বাকি থাকে সবার শেষের লেয়ার’টি।
তৃতীয় ধাপ (তৃতীয় লেয়ার-প্লাস)
- উপরের চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন ২টি লেয়ার মিলে গেলেও, বাকি থাকে একটি লেয়ার। সেই একটি লেয়ারে একটিই সেন্টার আছে, যা হচ্ছে সবুজ। এবার আমাদের এই সবুজের একটি প্লাস বানাতে হবে। যেহেতু আমার এখানে আগে থেকেই ২টি এজ আছে, তাই আমার বাকি ২টি বসালেই হয়ে যাবে।
- আপনাকে এবার তৃতীয় লেয়ারে সবুজ এজ খুজে সে দিকটিকে আপনার সামনে রেখে এই সূত্রটি ব্যবহার করতে হবে –
” F, R, U, Ri, Ui, Fi “
- সূত্রটি ভালভাবে ব্যবহার করার পর যদি কিউবে মাইনাস (“–”) চিহ্ন আসে, তাহলে সেটিকে আপনার বাম পাশ থেকে ডান পাশ বরাবর রেখে আবারো একই সূত্র প্রয়োগ করতে হবে। (যদি মাইনাস না হয়, তাহলে আবারো সূত্র দিয়ে করার চেষ্টা করুন)
- এই তো, প্লাস হয়ে গেলো। এখন আমাদের চারটি কর্ণার ভালভাবে ঘুরিয়ে ফেরিয়ে বসাতে পারলেই রুবিক’স কিউব মিলে যাবে। তারপর তৃতীয় লেয়ারটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে যেকোনো দুটি এজ নিচের দুটি লেয়ারের রঙের সাথে মিলাতে হবে।
- এক্ষেত্রে আমার যেমন কমলা ও সাদা রঙের মাধখানে সবগুলো (৩টি একই রঙ) রঙ মিলে গেছে। আর যদি দুটি রঙ পরস্পর বিপরীত দিকে মিলে, তাহলে মাঝখানে নিচের সূত্রটি দিন, দেখবেন মিলে যাবে।
- এবার আপনার কিউবে যে দুটো রঙ মিলে গেছে, সে দুটো রঙের একটি আপনার হাতের বামে, এবং অপরটি কিউবের পেছনে রেখে এই সূত্রটি ব্যবহার করুন –
” R, Ui, Ui, Ri, Ui, R, Ui, Ri, Ui “
- দেখবেন ৪টি রঙের প্রতিটির মাঝখানে মিলে গেছে (অনেক সময় একটি কর্ণারও মিলে যায়)। না মিললে আবারো চেষ্টা করুন। এবার আমাদের শুধু ৪টি কর্ণার বাকি থাকে। আপনাকে এমন একটি কর্ণার বেছে নিতে হবে, যেটি কিনা তার জায়গামত থাকলেও, রঙগুলো ওলটপালট হয়ে থাকে। নিচের ছবিটি লক্ষ করুন –
- সবুজ, লাল ও হলুদের মাঝখানে যে কর্ণারটি রয়েছে সেটিরও রঙ সবুজ, লাল ও হলুদ। কিন্তু কর্ণারের রঙ ওলট পালট হয়ে আছে। কিন্তু যদি আপনার কিউবে এমন কোন কর্ণার না থেকে থাকে, তাহলে যেকোন একটি কর্ণার বাম পাশে রেখে নিচের সূত্র দিয়ে আনার চেষ্টা করুন। একেকবার প্রয়োগ করার পর আপনাকে দেখে নিতে হবে যে এসেছে কিনা।
” Li, U, R, Ui, L, U, Ri, Ui “
- এবার খেয়াল করে দেখুন প্রতিটি কর্ণারেই সঠিক কর্ণার কিউব এসে গেছে, এবার কেবল সেগুলো ঘুরিয়ে বসিয়ে দিলেই হলো। খেয়াল রাখবেন প্রথমে যে কর্ণার মিলাবেন, সেটি অবশ্যই যেন আপনার হাতের ডানদিকে থাকে। তারপর এই দুটি সূত্র, এক বা একাধিকবার প্রয়োগ করলে মিলে যাবে।
1. R, Ui, Ui, Ri, Ui, R, Ui, Ri
2. Li, U, U, L, U, Li, U, L
- তখন বাকি থাকবে কেবল দুটো কর্ণার। ঠিক আগের মতই ওই সূত্র দিয়ে আবারো কর্ণারকে ডানপাশে রেখে মিলাতে থাকুন, যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরোটা মিলে যাচ্ছে।
ছবি
~
রুবিক’স কিউব পুরোপুরিভাবে মিলানোর আগে
প্রথম প্রথম এই উপায় দেখে আপনি কখনই রুবিক’স কিউব মিলাতে পারবেন না। আগে আপনাকে রুবিক’স নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করতে হবে। কিছু না শিখলেও, বা না বুঝলেও আপনাকে রুবিক’স কিউব নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করতে হবে। তবে ভাল হবে যদি আপনি একটি রঙ মিলানো শিখতে পারেন।
রুবিক’স কিউব বিষয়টা যে খুব কঠিন, তা কিন্তু নয়। আপনি যদি মনে করেন যে আপনি রুবিক’স কিউব মিলাতে পারবেন, তাহলে আপনি অবশ্যই পারবেন। আর যদি মনে করেন যে এ আমার কাজ নয়, বা আমি এটা করতে পারব না, তাহলে তো আপনি অবশ্যই পারবেন না। রুবিক’স কিউব মিলানো পুরোপুরি আপনার চিন্তাভাবনার উপর কাজ করবে।
যদি আপনি 3X3X3 রুবিক’স কিউব মিলানো কঠিন মনে করেন, তাহলে এই ছবিগুলো দেখুন –
meffert’s gear ball
megaminx cube
10X10X10 cube
rubik’s cube for blind person
উপরের প্রতিটি কিউবের চেয়ে 3X3X3 রুবিক’স কিউব মেলানো কতটা সহজ, তা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন? তাই চেষ্টা শুরু করতে পারেন
~Ashab Uddin Ahmed আসহাব উদ্দিন আহমেদ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন